Ads

Breaking

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

চীন ভারত উত্তেজনায় ভারতকে সাহায্য করবে না বাংলাদেশ, দুদেশের উত্তেজনায় লাভ বাংলাদেশের।



লাদাখ সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা। করোনা পরিস্থিতিতে ভারত অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় ভুগছে। এরই মাঝে চীন-ভারত সীমান্ত ঘেষে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ভারত বর্ডারের নিকটস্থ এয়ারবেসে নতুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন, গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং আগুনে ঘি ঢেলে দেবার মত,"নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন" চীনা প্রেসিডেন্ট মিস্টার শি জিং পিং।

ভারতের নিকট প্রতিবেশীদের মাঝে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সাথেই "বন্ধুত্বপূর্ণ" সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতের জন্য দুর্ভাগ্য এত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্বেও বাংলাদেশী সামরিক বাহিনীর একটা বড় অংশ "চীনা সামরিক বাহিনীর অনুকরনে নির্মিত"..এয়ারক্রাফট, ট্যাংক, রাডার, নেভাল ভেসেল, ফ্রিগেট সব কিছুতেই রয়েছে চীনের একক আধিপত্য।

ইতিমধ্যে পাকিস্তান,নেপাল,শ্রীলংকার মত দেশ "চীনকে" ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারত নিজেও তার ঘাড়ের উপর চীনের শ্বাস নেয়া অনুভব করছে। একই ভাবে করোনা সংকটে ভুগতে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কে "এশিয়ার রাজা কে!!" বোঝাবার জন্যই মুলত "ভারতকে" চীন একটি টেস্টকেস হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও ভার‍ত ঘোষনা দিয়েছে তারাও সেনা মোতায়েন করছে। তবে তাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে চীনাদের "Please Go Home" সম্বলিত প্লাকার্ড হাতে ধরে অনুরোধ করতেও দেখা গিয়েছে।অর্থাৎ, তারা (ভারত) ধরেই নিয়েছে তারা ভিক্টিম এবং মনস্তাত্বিকভাবে তাদের Morale আপাতত নিচের দিকেই।

আমেরিকা তথা ট্রাম্প প্রশাসন সবকিছু অবজার্ভ করলেও প্রত্যক্ষবাদে রাশিয়া,আমেরিকা কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধুমাত্র বিবৃতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। জাতিসংঘে টুকটাক কথা হলেও চীন-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা আরো বাড়বে। অর্থাৎ, ভারত নিজেও জানে,চীনের বিরুদ্ধে দিনশেষে ভারত একাই "গিনিপিগে" রুপান্তরিত হয়েছে। অনেক এনালিস্ট এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না,চীন নিজেও করোনা পরিস্থিতির মাঝে এমন কেন করছে। Peoples Liberation Army মুলত কোন ঘটনার ব্রিফ রিপোর্ট প্রদান করেনা। অর্থাৎ, কোন ঘটনার পর কি ঘটবে তার কোন ইনফরমেশন শুধু PLAAN ব্যতিত কারো হাতেই নেই। চীন কি তাহলে চীন থেকেই ছড়ানো কোভিড-১৯ নিয়ে সবার মনযোগ সরিয়ে ফেলতে চায়। এরই মাঝে জাপান,কোরিয়া,ফিলিপাইন,ইন্দোনেশিয়া,ভিয়েতনাম,মালেয়শিয়া সহ অন্যান্য দেশগুলোর সাথেও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধ রয়েছে চীনের।

অবশ্য ধারনা করা হচ্ছে, চীন নিজেও ভারত আক্রমণ করবেনা। কারন চীনের বড় একটি ইকোনমি ভারত।আর বিশ্ব সাম্রাজ্যে প্রভাব রাখার জন্য যুদ্ধের চাইতে অর্থ বেশী দরকারি তাও জানে তারা। তবে এতদিন ভারত যে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতো তার সত্যতা কতটা তাই চীন প্রমাণ করতে যাচ্ছে। ভারত নি:সন্দেহে তার নিকট প্রতিবেশীদের কাছে ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সাপোর্ট চাইবে। তবে একথা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশ এ ব্যপারে কোন মন্তব্য প্রকাশ করবেনা। বরাবরের মতই চীন বাংলাদেশের স্ট্রাটেজিক পার্টনার এবং ভারত নিকটতম প্রতিবেশী। দ্বিধায় ভুগলেও বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকা বলতে গেলে চীনের প্রতিই এক প্রকার মৌন সমর্থন।

মনে রাখতে হবে এশিয়া তথা দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বজায় রাখতে bay of bengal ভুক্ত সব দেশেরই মৌন সম্মতি আদায় করতে হবে চীন এবং ভারতকে। তা সে যত ক্ষুদ্র দেশই হউক না কেন,বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আজ ছোট নয়।পলিটিক্যালি বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে। একই ভাবে, ভারতকে চীন কার্ড এবং চীনকে ভারত কার্ড দেখিয়ে উভয় পক্ষ থেকে যথাসম্ভব বিজনেস, সামরিক সক্ষমতা সহ অন্যান্য সেক্টরে বেনিফিট তুলতে পারাটাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ্য। মনে রাখতে হবে, বিশ্ব দরবারের চিরায়ত ডিপ্লোম্যাসিতে কেউ কারো স্থায়ী বন্ধু না। রোহিঙ্গা সমস্যা সহ অন্যান্য ইস্যুতে চীন কিংবা ভারত কাউকেই পাশে পায়নি বাংলাদেশ। তাই এখানে বাংলাদেশের স্বার্থপর হওয়া অন্যায় কিছু না।

সে অবধি ভারত চীন কি করে একে মোকাবেলা করে তাই দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে দয়া করে আমাদের জানান আমরা চেষ্টা করবো আপনার অভিযোগটির উত্তর দিতে।

ধন্যবাদ...