খোকসার হিজলাবট গ্রামের শতবর্ষী লাল তেঁতুল গাছের।
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন তেঁতুল গাছের অবস্থান খোকসা উপজেলার হিজলাবট গ্রামে। গাছগুলি দেখলে অবাক হতে হয়, এগুলো তেঁতুল না বটগাছ, এত বড় তেঁতুলগাছ হয়? আকারে প্রায় পঁচিশফুট ব্যাসার্ধের হবে আর লম্বায় প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ ফুট। জন্ম কবে তা কেউ বলতে পারেনা তবে স্থানীয়দের মতে, এখানে একটি নীলকুঠি আছে আর এই গাছটির বয়স এর সামসাময়িক বা এর থেকেও বেশি। এখানে তিনটি গাছ আছে তারমধ্যে একটি গাছের তেতুলের রঙ ভিতরে সাদার বদলে লাল। এই লাল তেঁতুল আমাদের দেশে দুর্লভ। স্থানীয় বয়স্করা জানান যে তারা ছেলেবেলা থেকেই এই গাছগুলোকে একই রকমের দেখে আসছেন। তাঁদের মতে এই গাছগুলোর বয়স ২শত বা তারও বেশি হবে। ঝড়ে ভেঙ্গে গিয়ে বড় গাছটি এখন ছোট হয়ে গিয়েছে আগে আরও বেশি বড় ছিল। স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বিরা একে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে অনেকেই এর পূজা করে। জানা যায় অনেকেই এই গাছের তেঁতুল মনোবাসনা পূরণ হবার জন্য খায়। আর এই গাছের ক্ষতি করলে নাকি তার অনিষ্ঠ হয় তাই কেউ এই গাছের ডাল কাটতেও ভয় পায়। আমি চেষ্টা করেছিলাম এই গাছের সায়ন বা চারা সংগ্রহ করার জন্য, কিন্তু বিফল হয়েছি।
কোথা থেকে এই তেতুল গাছ এসেছে তা জানার আগ্রহ থেকে কুষ্টিয়ার কাছাকাছি কোথায় এমন গাছ আছে কিনা তা সন্ধান শুরু করলাম। একটি তথ্য পাওয়া গেল যে, পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাট এলাকায় একটি লাল তেতুল গাছ রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন এর বয়স প্রায় ৫০০ বছর। এই গাছটির সাথে একজন মুসলিম পীরকে নিয়ে গল্প চালু আছে। সেই পীর নাকি এই তেতুল দিয়ে বিভিন্ন রকমের রোগের চিকিৎসা করতেন। ধারনা করা যায় নদীয়া থেকে সেই পীরের কোন মুরীদের মাধ্যমে খোকসায় লাল তেতুলের আগমন ঘটতে পারে।
এই লাল তেতুলের বানিজ্যিক সম্ভাবনা খুবই ভালো। কারণ খাদ্য ও ঔষধ শিল্পে এই লাল বায়ো কালারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে দয়া করে আমাদের জানান আমরা চেষ্টা করবো আপনার অভিযোগটির উত্তর দিতে।
ধন্যবাদ...