আবহাওয়া
এপ্রিল ৩০, ২০২০
বাড়ছে বজ্রপাত, রক্ষা পেতে কিছু সতর্কতা।
বজ্রপাত কি এবং কেন হয়?
বজ্রপাত বলতে আকাশের আলোর ঝলকানিকে বুঝায়। এই সময় উক্ত এলাকার বাতাসের প্রসারন এবং সংকোচনের ফলে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। এ ধরনের বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন দুটি মেঘের মধ্যে অথবা একটি মেঘ এবং ভূমির মধ্যেও হতে পারে।
বজ্রপাত বলতে আকাশের আলো ঝলকানিকে বুঝায়
বজ্রপাত হওয়ার সময় উক্ত এলাকার বাতাসের প্রসারন এবং সংকোচনের ফলে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই।এ ধরনের বৈদ্যুতিক আধানের নির্গমন দুটি মেঘের মধ্যে অথবা একটি মেঘ এবং ভূমির মধ্যেও হতে পারে। বজ্রপাত মেঘ, বাতাস বা মাটির মধ্যে বায়ুমণ্ডলে বিদ্যুতের একটি বিশাল স্ফুলিঙ্গ। বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে, বায়ু মেঘের মধ্যে এবং মেঘ এবং ভূমির মধ্যে ধনাত্মক এবং নেতিবাচক চার্জের মধ্যে অন্তরক হিসাবে কাজ করে। যখন বিপরীত চার্জগুলি যথেষ্ট পরিমাণে আপ হয়, বাতাসের এই অন্তরক ক্ষমতাটি ভেঙে যায় এবং একটি বিদ্যুতের দ্রুত স্রাব হয় যা আমরা বজ্র হিসাবে জানি। বিপরীতে চার্জগুলি আবার তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বজ্রপাতের ফ্ল্যাশ অস্থায়ীভাবে বায়ুমণ্ডলে চার্জড অঞ্চলগুলিকে সমান করে দেয়।
বজ্রবিদ্যুৎ মেঘের মধ্যে বিপরীত চার্জগুলির মধ্যে "ইন্ট্রা-ক্লাউড বজ্রপাত" বা মেঘের মধ্যে এবং মাটিতে বিপরীত চার্জগুলির মধ্যে মেঘ থেকে মাটিতে বজ্রপাত হতে পারে।বজ্রপাত পৃথিবীর প্রাচীনতম পর্যবেক্ষণ প্রাকৃতিক ঘটনাগুলির মধ্যে একটি। এটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, অত্যন্ত তীব্র বর্নের আগুন, পৃষ্ঠের পারমাণবিক বিস্ফোরণ, ভারী তুষার ঝড়, বড় বড় ঘূর্ণিঝড় এবং স্পষ্টতই ঝড়ো ঝড় দেখা যায়।
এখন বৈশাখ মাস। আর বৈশাখ মানেই কালবৈশাখী ঝড়। এ সময় ঝড়ো হাওয়া আর তার সঙ্গে বজ্রপাতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। মাঝে মধ্যেই বজ্রপাতে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বজ্রপাতের সময় বাড়ির মধ্যে থাকলে তাও কিছুটা বাঁচা যায়।
তবে বাড়ির বাহিরে অথবা রাস্তায় থাকাকালীন সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন তার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানুন।
১. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকুন বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এ সব জায়গায় যাবেন না বা কাছাকাছি থাকবেন না। ফাঁকা জায়গায় কোনও যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।
২. পাকা বাড়ির নীচে আশ্রয় নিন ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনও দালানের নীচে আশ্রয় নিতে পারেন।
৩. ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলোর সংস্পর্শ এসে অনেকে আহত হন।
৪. জানালা থেকে দূরে থাকুন বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতর থাকুন।
৫. বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে থাকলে সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। গাড়ির ভেতরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। গাড়ির কাচেও হাত দেবেন না।
৬. টিভি-ফ্রিজ থেকে সাবধান বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরবেন না। বজ্রপাতের আভাষ পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন।
৭. খালি পায়ে বা পা খোলা জুতো নয় বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বেরোতেই পা ঢাকা জুতো পড়ে বের হোন। রবারের গাম্বুট এ ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো কাজ করবে।
৮. বৃষ্টির সময় রাস্তায় জল জমাটা আশ্চর্য নয়। তবে বাজ পড়া অব্যাহত থাকলে সে সময় রাস্তায় বের না হওয়াই মঙ্গল। একে তো বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। উপরন্তু কাছাকাছি কোথাও বাজ পড়লে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।
৯. চার পাশে খেয়াল রাখুন বজ্রপাতের সময় রাস্তায় চলাচলের সময় আশেপাশে খেয়াল রাখুন। যে দিকে বাজ পড়ার প্রবণতা বেশি সে দিক বর্জন করুন। কেউ আহত হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
১০. আপনার বাড়িকে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। এজন্য আর্থিং সংযুক্ত রড বাড়িতে স্থাপন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিতে হবে। ভুলভাবে স্থাপিত রড বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

