Ads

Breaking

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

আগস্ট ১৩, ২০২০

বৃহত্তর রামগতির নদী বাঁধের অগ্রগতির সুখবর দিলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির যুব ও ক্রিড়া সহ সম্পাদক আবদুজ্জাহের সাজু

 





আবদুর জাহের সাজুঃ প্রিয় রামগতি ও কমলনগর বাসি নদী  বাঁধের কাজের ব্যাপারে অামাদের এমপি মহোদয়  গতকাল  ০৬/০৭/২০২০
 অামাকে দায়িত্ব দিয়েছে অামি সেইটা  অাগারগাঁ পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়র গিয়ে মোটামুটি কাজ এগিয়ে  নিয়েছি  অাগামি দুই মাসের মধ্যে একনেকে পাশ করাব অাপনারা সকলে দোয়া করেন এমপি সাহেবের জন্য এখন থেকে সবসময়  এই ফাইলের পিছনে  অামি লেগে অাছি যেন তাড়াতাড়ি পাশ করতে পারি । অাশা করি জানুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরু করা যাই ।অার দুই  উপজেলা মোট
৩৫০০ কোটি টাকা পাশ হবে অাপনারা অাল্লাহর কাছে দোয়া করেন ।অাজ  ০৮/০৭/২০২০ তারিখে অামি পুনরায় পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে গিয়েছি খুব তাড়াতাড়ি যেন একনেকে পাশ করতে পারি সেই  ব্যবস্থা অফিসার কে দিয়ে ফ্রাইল উঠানোর জন্য কম্পিউটারে কাজ করতেছে অামি নিজে অনেকক্ষণ  দাড়িয়ে ছিলাম  অনেক পাতা ভাই  একটু সময় দিতে হবে ।অাল্লাহর নাম নিয়ে হয়ে যাবে।
আগস্ট ১৩, ২০২০

বাতিল হচ্ছে এবছরের পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা! পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডের ইইসি ও জেডিসি পরীক্ষা ও বাতিল হচ্ছে!


মহামারি করোনাভাইরাস স্থিতিশীল না হওয়ার কারণে এই দুই পরীক্ষা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।  এ নিয়ে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের উপস্থিতিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের একটি বৈঠক এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ভিত্তিতে উভয় মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি সারসংক্ষেপ তৈরি হচ্ছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে। দুই মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


এক সূত্রে জানা যায়, সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলেও এই দুই স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে মেধাবৃত্তি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ না করে বছরের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিভিত্তিক লেখাপড়া শেষ করার চিন্তাভাবনা চলছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হয় তাহলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে।


আর যদি ডিসেম্বরের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ‘অটো-পাস’ দিয়ে তুলে দেয়া হবে। এই উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে দেয়া হবে। এজন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে দেবে। এ লক্ষ্যেই কাল বুধবার এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের বৈঠক শুরু হচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে (নেপ) বিশেষজ্ঞদের বৈঠক চলছে।


সূত্র : যুগান্তর

আগস্ট ১৩, ২০২০

রামগতিতে দেখা মিলেছে ভয়ংকর রাসেল ভাইপার সাপের সন্ধান ।

 


লক্ষ্মীপুরের রামগতির মধ্য চর গোসাই গ্রামে ভয়ংকর  রাসেল ভাইপার সাপের সন্ধান মিলেছে। 

বিগত ২০ বছরে এই সাপটি বাংলাদেশে তেমন দেখা যায় নি অর্থাৎ এটি বিলুপ্তপ্রায়।কিন্তু ভারতের পানির সাথে এটি দেশে ডুকার আশঙ্কা ছিলো।সাপটি বিশ্বের ৪র্থ বিষাক্ত সাপ হিসেবে সুপরিচিত। 

ইদানীং ফেইসবুকে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সতর্ক করা হয়েছে রাসের ভাইপারের ব্যাপারে। উত্তর অঞ্চলে বন্যার পানি মেঘনায় নামার সাথে সাথে ভারত থেকে আশা এই সাপ গুলো উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে যাওয়ায় আশঙ্কা করা হয়েছিলো।সাম্প্রতি মেঘনার জোয়ারের সাথে সাপটি মধ্য চর গোসাই দিদারের বাড়ির সামনে দেখে এলাকাবাসী সাপটিকে মেরে ফেলে।।এর আগে রাজশাহী,চাঁদপুর এবং চট্রগ্রামের গুলিয়াখালীতে ভাইপার দেখার তথ্য পাওয়া গেছে।

রাসেল ভাইপারের কামড় খেয়ে আজ পর্যন্ত কেউ বাঁচতে পারে নি।তাই এই মুহূর্তে সাপের কামড় থেকে বাঁচতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকাই মূখ্য। 


উল্লেখ্য যে আমাদের দেশের শঙ্খিনী সাপের প্রধান খাদ্য রাসের ভাইপার।কিন্তু বিভিন্ন গুজবে অনেক টাকার লোভে অনেকে সাপ ধরে ভারতে পাচার করেছে এবং বিক্রি করেছে।।তাছাড়া মেরেও ফেলেছে এই উপকারী সাপটি। এই মূহুর্তে শঙ্খিনী সাপ না মারার অনুরোধ রইলো সবার নিকট।।


তথ্যসূত্রঃ মোঃ নোমান উদ্দিন

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

আগস্ট ১০, ২০২০

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর জন্মদিন উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ করেন উদিয়মান জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা রামগতি উপজেলা ছাত্রলীগের আগামীর কান্ডারি মুসফিক মাহমুদ মৃদুল ।




বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর জন্মদিন উপলক্ষে উদিয়মান জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা রামগতি উপজেলা ছাত্রলীগের আগামীর কান্ডারি মুসফিক মাহমুদ মৃদুল এর উদ্যোগে স্থানিয় ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে ডা:তোহফায়ি আইউব মহিলা কলেজ মাঠের চার পাশে এবং এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হয়।

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

মে ৩১, ২০২০

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না এ গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত করেছেন।



একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম ২০২০! (সর্বশেষ আপডেট)

 করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না এ গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, '"করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কলেজ ভর্তি " । এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, আগামী ৬ জুন থেকে কলেজ ভর্তি ২০২০ নিয়ে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো যে প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে তা মূলত গৃহীত হচ্ছে না। ফলে কলেজ ভর্তি ২০২০ এর কার্যক্রম নিয়ে নতুন তারিখ শিক্ষা মন্ত্রনালয় জানাবে তা স্পষ্ট।
.
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-আর-রশিদ জানান, 'সার্বিক পরিস্থিতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা যাচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের দিকে যেহেতু একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর চিন্তা, তাই এখনই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করাটা রিস্ক হয়ে যায়।' - এ থেকে বুঝা যাচ্ছে মোটামুটি বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিবে শিক্ষা বোর্ডগুলো 'কলেজ ভর্তি ২০২০' নিয়ে!
.
অনলাইনে কলেজ ভর্তি আবেদন করতে এই করোনা পরিস্থিতির মাঝে ছাত্রছাত্রীদের সাইবার ক্যাফেতে ও কলেজগুলোতে যেতে হবে যা অনেক বড় ঝুঁকি তাদের জন্য; উপরন্তু প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার অভিভাবক বোর্ডেই আসেন সন্তান আবেদন করতে পারেনি বা আবেদন করার সময় ভুল হয়েছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে যা জানিয়েছে অধ্যাপক হারুন-আর-রশিদ। এর কারণে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়া ২০২০ শুরু করে দিলে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হবে না। তাই এই সব বিবেচনা করেও এই মুহূর্তে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছে না শিক্ষা বোর্ডগুলো।
.
সুতরাং, সব বিবেচনায় নিয়ে বুঝা যাচ্ছে বেশ ভালো রকমে হয়ত পিছিয়ে দেওয়া হবে কলেজ ভর্তি কার্যক্রম ২০২০! এখানে বুঝা যাচ্ছে সেপ্টেম্বরের দিকেই যেহেতু যতদূর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে (এই ব্যাপারটা অনেকটা স্পষ্ট - করোনা পরিস্থিত বিবেচনায়) সেহেতু কলেজ ভর্তি ২০২০ এত দ্রুত শুরু হচ্ছে না।  
.
পুরো কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগে ৫০-৫৫ দিন। আর এখন মাত্র জুন মাস চলছে! ফলে সেপ্টেম্বরে যদি ক্লাস শুরু হয় তবে এখন ৯০ দিন আগে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া করোনা পরিস্থিতির এই পর্যায়ে আসলেই যে তাড়াতাড়ি হয়ে যায় তা হয়ত বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যাই হোক, যেহেতু বোর্ডগুলো ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে পুরো প্রস্তুত সেহেতু পরিস্থিতির উন্নতি হলেই যে সব প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে তা তোমরা বুঝতে পারছো।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

মে ২৮, ২০২০

লিবিয়ায় একজন স্থানীয় মানব পাচারকারী নিহতের জেরে ২৬ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে ।



লিবিয়ায় একজন স্থানীয় মানব পাচারকারী নিহতের জেরে ২৬ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে ।

লিবিয়ায় অবৈধ উপায়ে যাওয়া একদল বিদেশী নাগরিকদের টাকার জন্য আটকে রেখেছিল স্থানীয় মানব পাচারকারী । যার মধ্যে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশী নাগরিকও বন্দী ছিলেন । এক পর্যায়ে মানব পাচারকারীদের সাথে ঝগড়া-হাতাহাতির কারণে স্থানীয় এক মানবপাচারকারী নিহত হয় । লিবিয়ান ওই মানব পাচারকারী নিহতের প্রতিশোধে আটকে থাকা বাংলাদেশী নাগরিকদের অমানবিকভাবে হত্যা করে লিবিয়ান মানব পাচারকারী গোষ্ঠীটি । এ ঘটনায় ২৬ মতান্তরে ৩০ জন বাংলাদেশী নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে । আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ।।
মে ২৮, ২০২০

চীন ভারত উত্তেজনায় ভারতকে সাহায্য করবে না বাংলাদেশ, দুদেশের উত্তেজনায় লাভ বাংলাদেশের।



লাদাখ সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা। করোনা পরিস্থিতিতে ভারত অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় ভুগছে। এরই মাঝে চীন-ভারত সীমান্ত ঘেষে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ভারত বর্ডারের নিকটস্থ এয়ারবেসে নতুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন, গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং আগুনে ঘি ঢেলে দেবার মত,"নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন" চীনা প্রেসিডেন্ট মিস্টার শি জিং পিং।

ভারতের নিকট প্রতিবেশীদের মাঝে শুধুমাত্র বাংলাদেশের সাথেই "বন্ধুত্বপূর্ণ" সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতের জন্য দুর্ভাগ্য এত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্বেও বাংলাদেশী সামরিক বাহিনীর একটা বড় অংশ "চীনা সামরিক বাহিনীর অনুকরনে নির্মিত"..এয়ারক্রাফট, ট্যাংক, রাডার, নেভাল ভেসেল, ফ্রিগেট সব কিছুতেই রয়েছে চীনের একক আধিপত্য।

ইতিমধ্যে পাকিস্তান,নেপাল,শ্রীলংকার মত দেশ "চীনকে" ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারত নিজেও তার ঘাড়ের উপর চীনের শ্বাস নেয়া অনুভব করছে। একই ভাবে করোনা সংকটে ভুগতে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কে "এশিয়ার রাজা কে!!" বোঝাবার জন্যই মুলত "ভারতকে" চীন একটি টেস্টকেস হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও ভার‍ত ঘোষনা দিয়েছে তারাও সেনা মোতায়েন করছে। তবে তাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে চীনাদের "Please Go Home" সম্বলিত প্লাকার্ড হাতে ধরে অনুরোধ করতেও দেখা গিয়েছে।অর্থাৎ, তারা (ভারত) ধরেই নিয়েছে তারা ভিক্টিম এবং মনস্তাত্বিকভাবে তাদের Morale আপাতত নিচের দিকেই।

আমেরিকা তথা ট্রাম্প প্রশাসন সবকিছু অবজার্ভ করলেও প্রত্যক্ষবাদে রাশিয়া,আমেরিকা কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধুমাত্র বিবৃতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। জাতিসংঘে টুকটাক কথা হলেও চীন-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা আরো বাড়বে। অর্থাৎ, ভারত নিজেও জানে,চীনের বিরুদ্ধে দিনশেষে ভারত একাই "গিনিপিগে" রুপান্তরিত হয়েছে। অনেক এনালিস্ট এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না,চীন নিজেও করোনা পরিস্থিতির মাঝে এমন কেন করছে। Peoples Liberation Army মুলত কোন ঘটনার ব্রিফ রিপোর্ট প্রদান করেনা। অর্থাৎ, কোন ঘটনার পর কি ঘটবে তার কোন ইনফরমেশন শুধু PLAAN ব্যতিত কারো হাতেই নেই। চীন কি তাহলে চীন থেকেই ছড়ানো কোভিড-১৯ নিয়ে সবার মনযোগ সরিয়ে ফেলতে চায়। এরই মাঝে জাপান,কোরিয়া,ফিলিপাইন,ইন্দোনেশিয়া,ভিয়েতনাম,মালেয়শিয়া সহ অন্যান্য দেশগুলোর সাথেও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধ রয়েছে চীনের।

অবশ্য ধারনা করা হচ্ছে, চীন নিজেও ভারত আক্রমণ করবেনা। কারন চীনের বড় একটি ইকোনমি ভারত।আর বিশ্ব সাম্রাজ্যে প্রভাব রাখার জন্য যুদ্ধের চাইতে অর্থ বেশী দরকারি তাও জানে তারা। তবে এতদিন ভারত যে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতো তার সত্যতা কতটা তাই চীন প্রমাণ করতে যাচ্ছে। ভারত নি:সন্দেহে তার নিকট প্রতিবেশীদের কাছে ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সাপোর্ট চাইবে। তবে একথা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশ এ ব্যপারে কোন মন্তব্য প্রকাশ করবেনা। বরাবরের মতই চীন বাংলাদেশের স্ট্রাটেজিক পার্টনার এবং ভারত নিকটতম প্রতিবেশী। দ্বিধায় ভুগলেও বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকা বলতে গেলে চীনের প্রতিই এক প্রকার মৌন সমর্থন।

মনে রাখতে হবে এশিয়া তথা দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বজায় রাখতে bay of bengal ভুক্ত সব দেশেরই মৌন সম্মতি আদায় করতে হবে চীন এবং ভারতকে। তা সে যত ক্ষুদ্র দেশই হউক না কেন,বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আজ ছোট নয়।পলিটিক্যালি বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে। একই ভাবে, ভারতকে চীন কার্ড এবং চীনকে ভারত কার্ড দেখিয়ে উভয় পক্ষ থেকে যথাসম্ভব বিজনেস, সামরিক সক্ষমতা সহ অন্যান্য সেক্টরে বেনিফিট তুলতে পারাটাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ্য। মনে রাখতে হবে, বিশ্ব দরবারের চিরায়ত ডিপ্লোম্যাসিতে কেউ কারো স্থায়ী বন্ধু না। রোহিঙ্গা সমস্যা সহ অন্যান্য ইস্যুতে চীন কিংবা ভারত কাউকেই পাশে পায়নি বাংলাদেশ। তাই এখানে বাংলাদেশের স্বার্থপর হওয়া অন্যায় কিছু না।

সে অবধি ভারত চীন কি করে একে মোকাবেলা করে তাই দেখার বিষয়।

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

মে ২৬, ২০২০

কলেজ ভর্তি কার্যক্রম ২০২০ নিয়ে সর্বশেষ আপডেট! .


আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে যেন এসএসসি ফলাফল প্রকাশের (৩১ মে ফল প্রকাশ) ১ সপ্তাহ পর থেকে (৬-৭ জুন) অনলাইনে কলেজ ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়।
.অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম ৫০ দিনের মাঝে শেষ করতে প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩ ধাপে কলেজ ভর্তি আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
২৭ জুন পর্যন্ত প্রথম ধাপের আবেদন গ্রহণের কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
প্রথম ধাপের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হতে পারে ৫ জুলাই।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

মে ২১, ২০২০

সাতক্ষীরার প্রতাপনগরের সুভদ্রাকাটি গ্রামে নদীতে মানব দেয়াল তৈরি করা হয়েছে বেড়ি বাঁধ রক্ষায়!


ছবিঃ সাতক্ষীরার প্রতাপনগরের সুভদ্রাকাটি গ্রামের


দুনিয়ার ইতিহাসে অন্যতম হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যঃ

সুপার সাইক্লোন আম্পানের ফলে সৃষ্ট ঢেউ ঠেকাতে নদীতে মানব দেয়াল তৈরি করা হয়েছে বেড়ি বাঁধ রক্ষায়!

মহাবিপদ সংকেতেও জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে সাতক্ষীরার সুভদ্রাকাটি গ্রমবাসী সবাই এখন নদীতে । কপাতাক্ষের ঢেউ থেকে বাঁধ বাঁচাতে পিঠ পেতে লাইন ধরে দাঁড়িয়েছেন নারী পুরুষ, শিশু বৃদ্ধ সবাই। জীবন দিয়ে হলেও কয়েক আঙুল জেগে থাকা এই বাঁধ তাদের বাঁচাতেই হবে। 

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন বাঁধের ওপরেও পানি ওঠানামা করছে। চোখের পলকে যে কোন সময় ঢুকে যাবে পানি। ভেসে যাবে হাজার হাজার হতদরিদ্রের মাথা গোঁজার ঠাই।

পুনশ্চঃ এতে বাঁধ শেষ পর্যন্ত রক্ষা হবে না আল্লাহ ভালো জানেন কিন্তু মানুষ এভাবেই তার সর্বশেষ বিন্দু দিয়েও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়... 



শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

মে ১৫, ২০২০

কমলাপুর রেলস্টেশনে লাল টি শার্ট পরা ছোট ছেলেটি আজ কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী |



কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১৯৮৩/৮৪ সালে কমলাপুর রেলস্টেশনে। ছবিটিতে লাল টি শার্ট পরা ছোট ছেলেটি বর্তমান কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার বাম দিকের বিস্কিট কালারের স্যুট পরিহিত ভদ্রলোক ততকালীন প্রধানমন্ত্রী পেয়ারে ট্রুডো। 

১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশের বীর জনতা লড়াই করছে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে, তখন অনেক বিদেশী রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধানই নানা ভাবে, নানা আঙ্গিকে এগিয়ে এসেছিলেন মুক্তিকামী বাংলাদেশের সাহায্যার্থে। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য কানাডা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডো।


পিয়েরে ট্রুডো হলেন কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পিতা। তার পুরো নাম জোসেফ ফিলিপ পিয়েরে ইভস ইলিয়ট ট্রুডো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মলগ্নে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে পিয়েরে ট্রুডো বাংলাদেশকে যেভাবে সাহায্য করেছিলেন, সে কথা ভোলেনি বাংলাদেশও। তাই তো মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর 'বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা' প্রদান করা হয়। 

২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মন্ট্রিলে হায়াত রিজেন্সি হোটেলে কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও পিয়েরে ট্রুডোর পুত্র জাস্টিন ট্রুডোর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার, ৯ মে, ২০২০

মে ০৯, ২০২০

বাপ্পি চৌধুরী অভিনীত সামনে যে সিনেমাগুলো আসবে




বাপ্পি চৌধুরী অভিনীত সামনে যে সিনেমাগুলো আসবে:

 ""সিক্রেট এজেন্ট"" 
পরিচালক: সাফিউদ্দিন সাফি
অভিনয় করেছেন: বাপ্পি চৌধুরী, উষ্ণ হক, গাজী রাকায়েত, তাসকিন ও বাপ্পারাজ।।

গত ৬ ডিসেম্বর ছিল চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরীর জন্মদিন, আর সেই দিনে জন্মদিনের উপহার স্বরূপ সিক্রেট এজেন্ট এ চুক্তিবদ্ধ করান চিত্র পরিচালক সাফি।।

নির্মাতা বলেন সিক্রেট এজেন্ট হবে একটি আধুনিক ছবি। ছবিতে বাপ্পীকে নতুন লুকে হাজির করা হবে। গল্পে থাকবে থ্রিলার ও অ্যাকশন। বাপ্পীকে পুলিশের এজেন্ট হিসেবে দেখা যাবে।।


গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নেত্রকোনা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একটানা শুটিং এর মাধ্যমে ক্যামেরা ক্লোজ করা হয়েছে। বর্তমানে সম্পাদনার টেবিলে আছে সিনেমাটি।।

পরিচালক সাফি সম্পর্কে বাপ্পি চৌধুরী বলেন, সাফি ভাই এর কাজ সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই, আর যেহেতু আমার জন্মদিনে এই কাজটি উপহার পেয়েছি, এটা আমার কাছে স্পেশাল। দর্শক থ্রিলার ও অ্যাকশন এর সুন্দর একটি আধুনিক ছবি পর্দায় দেখতে পাবেন।।

পক্ষান্তরে চিত্রনায়িকা উষ্ণ হক বলেন, বাপ্পি চৌধুরীর অনেক সিনেমা আমি দেখেছি, আমার প্রিয় অভিনেতাদের একজন, তার সাথে একসাথে কাজ করছি খুব ভালো লাগছে, আশা করি আমাদের এই জুটিকে দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করবে।।

খুব শীঘ্রই সিনেমাটি বড় পর্দায় অপেক্ষায় রইলাম।।।
মে ০৯, ২০২০

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন তেঁতুল গাছের অবস্থান খোকসা উপজেলার হিজলাবট গ্রামে।



খোকসার হিজলাবট গ্রামের শতবর্ষী লাল তেঁতুল গাছের।
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন তেঁতুল গাছের অবস্থান খোকসা উপজেলার হিজলাবট গ্রামে। গাছগুলি দেখলে অবাক হতে হয়, এগুলো তেঁতুল না বটগাছ, এত বড় তেঁতুলগাছ হয়? আকারে প্রায় পঁচিশফুট ব্যাসার্ধের হবে আর লম্বায় প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ ফুট। জন্ম কবে তা কেউ বলতে পারেনা তবে স্থানীয়দের মতে, এখানে একটি নীলকুঠি আছে আর এই গাছটির বয়স এর সামসাময়িক বা এর থেকেও বেশি। এখানে তিনটি গাছ আছে তারমধ্যে একটি গাছের তেতুলের রঙ ভিতরে সাদার বদলে লাল।  এই লাল তেঁতুল আমাদের দেশে দুর্লভ। স্থানীয় বয়স্করা জানান যে তারা ছেলেবেলা থেকেই এই গাছগুলোকে একই রকমের দেখে আসছেন। তাঁদের মতে এই গাছগুলোর বয়স ২শত বা তারও বেশি হবে। ঝড়ে ভেঙ্গে গিয়ে বড় গাছটি এখন ছোট হয়ে গিয়েছে আগে আরও বেশি বড় ছিল। স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বিরা একে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে অনেকেই এর পূজা করে। জানা যায় অনেকেই এই গাছের তেঁতুল মনোবাসনা পূরণ হবার জন্য খায়। আর এই গাছের ক্ষতি করলে নাকি তার অনিষ্ঠ হয় তাই কেউ এই গাছের ডাল কাটতেও ভয় পায়। আমি চেষ্টা করেছিলাম এই গাছের সায়ন বা চারা সংগ্রহ করার জন্য, কিন্তু বিফল হয়েছি।

কোথা থেকে এই তেতুল গাছ এসেছে তা জানার আগ্রহ থেকে কুষ্টিয়ার কাছাকাছি কোথায় এমন গাছ আছে কিনা তা সন্ধান শুরু করলাম। একটি তথ্য পাওয়া গেল যে, পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাট এলাকায় একটি লাল তেতুল গাছ রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন এর বয়স প্রায় ৫০০ বছর। এই গাছটির সাথে একজন মুসলিম পীরকে নিয়ে গল্প চালু আছে। সেই পীর নাকি এই তেতুল দিয়ে বিভিন্ন রকমের রোগের চিকিৎসা করতেন। ধারনা করা যায় নদীয়া থেকে সেই পীরের কোন মুরীদের মাধ্যমে খোকসায় লাল তেতুলের আগমন ঘটতে পারে।
এই লাল তেতুলের বানিজ্যিক সম্ভাবনা খুবই ভালো। কারণ খাদ্য ও ঔষধ শিল্পে এই লাল বায়ো কালারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।


বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০

মে ০৭, ২০২০

মহাবিশ্ব কি আর এই মহাবিশ্বে কি কি আছে।



আজ আমরা মহাবিশ্ব কি আর এই মহাবিশ্বে কি কি আছে ইত্যাদি নিয়ে আলোচন করব। ২য় পর্বতে আমরা আরও বর্ণনা জানব।

আমারা রাতের আকাশে যে তাঁরা দেখি আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেও মানুষ সূর্য, তারা, উল্কা, ছায়াপথ, ধূমকেতু ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে তাদের সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করতো । সেই সময় আজকের মত বিজ্ঞান এত উন্নত ছিলনা । ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, কম্পাসও ছিলনা । চাঁদ ও সূর্যের চলাচল দেখে দিন, দিক, মাস, সময়, বছর গণনা করা হত । সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে মোটামুটি উপরের দিকে ১০০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত যে শূন্যস্থান আছে তাকে আকাশ বলা হয় । পৃথিবী ছাড়িয়ে রাতের আকাশে তাকালে যতদূর দেখা যায় সেই বিশাল ফাঁকা শূন্যস্থান কে মহাকাশ বলে ।

 মহাবিশ্ব  মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে অনেক মত পার্থক্য আছে । আধুনিক মত অনুসারে – মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ একটি বালির কণার থেকেও ছোটো অবস্থায় ছিল । প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে প্রচুর তাপ ও শক্তি নিয়ে এর প্রসারণ শুরু হয় । সেই সঙ্গে প্রচুর গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ ও ধূলিকণা তৈরি হয় । কোটি কোটি বছর ধরে  এই গ্যাস আর মেঘ থেকে তৈরি হয় গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, উল্কা, ধূমকেতু নীহারিকা ইত্যাদি । মহাকাশের পরিসীমা ঠিক কতদূর সেটা মানুষের ধারনার বাইরে ।

 মহাকাশে রয়েছে বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু । এগুলি হল - গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, উল্কা, ধূমকেতু নীহারিকা ইত্যাদি । এখন আমরা এগুলি সম্বন্ধে কিছু কথা জেনে নেব ।


১) নক্ষত্র ও নক্ষত্রমণ্ডল – যে সব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো ও উত্তাপ আছে তাদের নক্ষত্র বলে । সূর্য নক্ষত্র আছে আমাদের থেকে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে আছে । তারপর রয়েছে ৪১ লক্ষ কোটি কিলোমিটার দূরে নক্ষত্র প্রক্সি-মা সেন্তাউরি । জ্যোতির্বিজ্ঞানিরা মহাবিশ্বের বিভিন্ন নক্ষত্র ‘আলোকবর্ষ’ একক দিয়ে দূরত্ব পরিমাণ করেন । ১ সেকেন্ডে আলোর গতি প্রায় ৩০০,০০০ কিলোমিটার । এই হিসাবে আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে সেটাই হল আলোকবর্ষ ।মনেকরা হয় যে নক্ষত্র গুলি নীহারিকা থেকে সৃষ্টি হয়েছে । নক্ষত্রদের রং দেখে আমরা সেই নক্ষত্র কতটা উত্তপ্ত অনুমান করতে পারি । লাল রঙের নক্ষত্রের উষ্ণতা সবথেকে কম, মাঝারি হলুদ নক্ষত্রের উষ্ণতা একটু বেশি । নীল নক্ষত্রের উষ্ণতা আরও একটু বেশি । সাদা রঙের নক্ষত্রের উষ্ণতা সবথেকে বেশি । তাদের কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে বিভিন্ন আকৃতি গঠিত হয় । এদেরকে বলা হয় নক্ষত্রমণ্ডল ।

২) গ্রহ ও উপগ্রহ – যে সমস্ত জ্যোতিষ্কের নিজের আলো ও উত্তাপ নেই, যারা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয় তাদের গ্রহ বলে । আবার গ্রহদের চারিদিকে যারা ঘোরে তাদের উপগ্রহ বলে । উপগ্রহরা আলো নক্ষত্রদের কাছ থেকে পায় । সূর্যের চারিদিকে আবর্তন করে ৮ টি গ্রহ । এগুলি হল – বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, উরেনাস ও নেপচুন । চাঁদ হল পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ । চাঁদ তার আবর্তন ও পরিক্রমণ শেষ করে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় । এছাড়াও অন্য গ্রহদের উপগ্রহ আছে। আগে প্লুটোকে গ্রহ হিসাবে ধরা হলেও
এখন তাকে বামন গ্রহের তালিকায় রাখা হয়।

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০

মে ০৫, ২০২০

ভালোবাসার ‘অপরাধে’ টানা ২৫ বছর রুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল ব্ল্যাঞ্চ মনিয়ের কে!



১৮৪৯ সালের ১লা মার্চ। ফরাসী এক ধনী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক মেয়ে। মনিয়ের পরিবার তাদের পদবী অনুসারে মেয়ের নাম রাখে ব্ল্যাঞ্চ মনিয়ের। ম্যাডাম মনিয়েরের দানশীলতার জন্য এলাকায় বেশ নাম-ডাক ছিল মনিয়ের পরিবারের। এমনকি তার উদারতার জন্য সে একটি কম্যিউনিটি এওয়ার্ড পর্যন্ত পেয়েছিল স্বীকৃতিস্বরুপ। মেয়ে ব্ল্যাঞ্চ মনিয়ের ছাড়াও এক ছেলে ছিল তার। নাম- মারসেল মনিয়ের, পেশায় একজন স্বনামধন্য উকিল। এক ছেলে-এক মেয়ে নিয়ে সুখের পরিবার মনিয়েরদের।
.
ছোটবেলায় যত না সুন্দর ছিল ব্ল্যাঞ্চ, বড় হবার সাথে রুপ যেন সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে তার। মেয়ের রুপ নিয়ে অহংকারের শেষ নেই মায়ের। মেয়ে তখন পূর্ন যুবতী। ২৫ বছর বয়স। মা তার পছন্দ করা অভিজাত পরিবারের এক পাত্রের সাথে বিয়ে ঠিক করলো ব্ল্যাঞ্চের। কিন্তু ততদিনে ব্ল্যাঞ্চ মন দিয়ে বসে আছে অন্য একজনকে। পেশায় সে সাধারণ একজন উকিল। পরিবারও সাদামাটা একদম।

ব্ল্যাঞ্চ তার পছন্দের মানুষটিকে মায়ের সামনে নিয়ে আসে। কিন্তু পারিবারিকভাবে অভিজাত ও স্বনামধন্য না হওয়ায় তার সাথে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় মা। তার পছন্দ করা পাত্রকেই বিয়ে কর‍তে হবে ব্ল্যাঞ্চকে- এ কথা জানিয়ে দেয় সে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি না হলে ব্ল্যাঞ্চকে একটি ছোট রুমে আটকে রাখে তার মা। কড়াভাবে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়- সেদিনই এ ঘর থেকে মুক্তি পাবে ব্ল্যাঞ্চ, যেদিন তার মায়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিবে সে। কিন্তু মায়ের মতো মেয়েও তার সিদ্ধান্তে অটল। বিয়ে যদি করতেই হয়, ভালোবাসার মানুষটিকেই করবে সে, অন্য কাউকে নয়!


বছরের পর বছর চলে যায়, ব্ল্যাঞ্চ তার সিদ্ধান্তে থাকে অনড়। মায়ের অহংকারী-জেদী মনও গলে না। ফলে মুক্তিও আর মেলে না। ১৮৮৫ সালে, ব্ল্যাঞ্চের ভালোবাসার মানুষটি মারা যাবার পরও তাকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়! এদিকে ব্ল্যাঞ্চের মা আর ভাই সমাজে এমন ভান করে থাকে যে ব্ল্যাঞ্চকে হারিয়ে তারা শোকে কাতর! বাড়ির কাজের লোকেরা এই ব্যাপারে জানলেও কাউকে জানাতে ভয় পেত মনিয়েরদের সামাজিক প্রভাবের কারণে। এইভাবে কেটে যায় পঁচিশটি বছর!

অতঃপর, ২৫ বছর পর, ১৯০১ সালে, প্যারিসের এটর্নি জেনারেলের কাছে বেনামে একটি চিঠি পৌছে। কে বা কারা চিঠিটি পাঠিয়েছে, কখনোই তা জানা যায়নি। সেখানে লেখা থাকে- মনিয়ের পরিবার বহু বছর ধরে তাদের বাড়িতে আটকে রেখেছে এক ব্যক্তিকে। মনিয়ের পরিবারের সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে প্রথমে না চাইলেও পরে তদন্ত চালাতে নির্দেশ দেন জেনারেল।

বাড়িতে তল্লাসি চালিয়ে কিছুই খুঁজে না পেয়ে যখন ফিরে যাবে সৈন্যরা, তখনই একজন সেনার নাকে আসে বোটকা এক পঁচা গন্ধ। সেই গন্ধ অনুসরণ করে চিলেকোঠায় পৌছালে সেখানে একটি অন্ধকার তালাবদ্ধ রুম দেখতে পায় তারা। রুমটিতে কেবলমাত্র একটি বন্ধ ছোট জানালা ছিল, তাও মোটা পর্দা দেওয়া। কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না বাইরে থেকে। সন্দেহ হওয়ায় জানালার কাচ ভেঙে ফেলে এক সেনা। ভাঙা কাচের ভেতর দিয়ে তারা দেখতে পায় রুমের এক কোনায় শেকলাবদ্ধ এক নারী! তাকে দেখে সেনারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখতে পায় বিভৎস এক দৃশ্য।
ছোট একটি বিছানায় পঁচা খাবার আর কোটি কোটি কীটের মধ্যে শুয়ে আছে মনিয়ের ব্ল্যাঞ্চ। এই ২৫ বছরে বাইরের আলো-বাতাস থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল সে। চেহারাও বিদঘুটে হয়ে গেছে। তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সে সময় তার ওজন ছিল মাত্র ২২ কেজি! কিন্তু বিগত ২৫বছরের ভয়াবহ স্মৃতি মাথা থেকে কিছুতেই মুছে ফেলতে পারেনি মনিয়ের ব্ল্যাঞ্চ। ফলে, গুরুতর মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তার। তাকে ভর্তি করা হয় ফ্রান্সের এক সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে। ১৯১৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, জীবনের বাকিটা সময় এখানেই কাটায় সে। ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে চাওয়ার ‘অপরাধে’ এই শাস্তি পেতে হলো তাকে।
.
আর ব্ল্যাঞ্চের মা আর তার ভাই-এর পরিণাম? ব্ল্যাঞ্চকে উদ্ধারের পর এরেস্ট করা হয় তার মা ও ভাইকে। মা অসুস্থ হয়ে গেলে জামিন পেয়ে বাসায় যায়। কিন্তু ততদিনে সবাই কাহিনী জেনে গেছে। ব্ল্যাঞ্চ উদ্ধার হওয়ার ১৫দিনের মাথায় বিক্ষুব্ধ জনতা ভিড় করে তাদের বাসার সামনে। আতঙ্কিত হয়ে হার্ট এটাক করে সেদিনই মারা যায় মিসেস মনিয়ের। অতিরিক্ত অহংকার আর ইগো এভাবেই শেষ করে দেয় একটি সাজানো গোছানো সংসারকে।

সোমবার, ৪ মে, ২০২০

মে ০৪, ২০২০

মালদ্বীপ চালাচ্ছেন বাংলাদেশিরা ৪ লাক্ষেরও মধ্যে ১ লাক্ষেরও বেশী বাংলাদেশী !


মালদ্বীপ বা মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্র ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম মালে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্ক এর সদস্য। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ দেশ বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ। পর্যটনের জন্য বিখ্যাত এ দেশের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র দুই দশমিক তিন মিটার এবং গড় উচ্চতা মাত্র এক দশমিক পাঁচ মিটার। এক হাজার দুই শ’রও বেশি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপ।

মালদ্বীপে চার লাক্ষ নাগরিকের মধ্যে এখন এক লাক্ষের উপন বাংলাদেশিরশ। মালদ্বীপের রাজধানী 
মালে স্থানীয় নাগরিকের চেয়ে বাজ্ঞালীর সংখ্যা বেশি।

মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ ও আমেরিকা পরিবর্তে ছোট এই দ্বীপে বাংলাদেশিদের বৈধ,অবৈধ দুটি পথ মিলিয়ে প্রবেশের সুযোগ করে থাকে এক শ্রেনির দালাল,

মালদ্বীপে হুলহুল মালে সহ অন্য অন্য দ্বীপে অসংখ্যা বাংলাদেশি নাগরিক কাজ করছেন।পুরো মালদ্বীপই এখন বাংলাদেশিরা চালাচ্ছেন, অথাৎ পর্যটকের চেয়েও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশিরা কাজ করছেন।

 কিছু যায়গায় বাংলাদেশি শ্রমিক সংখ্যা স্থানীয় শ্রমিকের থেকেও বেশি। সাধারনত ভ্রমনের জন্য মালদ্বীপের হুলহুল মালে ও মাহফুসি তে বছরের সব সময় ভ্রমনকারীরা বীড় করেন, এজন্য এই দ্বীপ দুটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকের ও চাহিদা বেশি।

তারা কেউ ব্যবসা করছেন, আবার কেউ হোটেল রেস্টুডেন্টে রান্নার কাজ করছেন, আবার কেউ বা
হোটেল মেনেজার, কেউ ওয়েটার বা হোটেল বয়।

আবার এমনও বালাদেশি আছেন যারা রাস্তাঘাট তৈরি করা থেকে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মানের সজ্ঞে জড়িত
এছাড়াও মালদ্বীপের সড়ক গুলোতে বিভিন্ন দোকান,খাবার দোকানে এবং সাগরে ভেসে থাকা বিলাস বহুল জাহাজগুলোতেও বাংলাদেশিদের কাজ করতে দেখা গেয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশি শ্রমিক ও কর্মী ছাড়াও অন্য অন্য দেশের মধ্যে পিলিপিনস,ভারত ও সিলংকার কিছু নাগরিক মালদ্বীপে কাজ করছেন। যদিও বাংলাদেশিদের চেয়ে সংখ্যায় তুললামূলক কম।

ধারনা করা হয়েছে অন্য অন্য দেশে থেকেও বাংলাদেশিদের বেতন কম তাই বাংলাদেশিদের চাহিদা বেশি।
মালদ্বীপের হুলহুল মালে ফাইভ স্টার হোটেল ও বেশ কয়েকটি হোটেলে কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন বাংলাদেশিরা। হোটেল গুলোতে যারা বাংলাদেশি ওয়েটার বা হোটেল বয় রয়েছে তারা মাসে দুই থেকে তিন'শত ডলারও পায়, তবে যারা রান্না বা মেনেজারের দ্বায়ীতে আছেন তাদের বেতন কিছুটা বেশি।

বাংলাদেশে জন্য গর্ব এবং একটি অন্যতম ভালো দিক হচ্ছে, মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাজের মান নিয়ে, মালদ্বীপের স্থানীয় বাসীরা অনেক খুশি।
সেই জন্য বাংলাদেশিরা প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

অসংখ্যা সমস্যা,প্রতিবন্ধকতা,পরিপূর্ণ সুযোগ সুবিধা না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ ও আমেরিকা তুলনায় মালদ্বীপের স্থানীয়রা তুলনামূলকভাবে শান্তিপ্রিয় সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন। এবং তারা অনেকাংশেই সফল,তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান মালদ্বীপ বিশ্বের অন্যতম ব্যয় বহুল পর্যটক কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারনে লোকডাউনে সংকটে পড়েছে দেশটির অর্থনৈতি, এতে দেশটিতে কর্মরত
বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে।

চাকরি হারিয়ে অবৈধ বেশির ভাগেরিই দুই বেলা খাওয়া মতো অর্থ নেই। এর উপর রয়েছে দেশটির চাপ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হোন নি।

দেশটিতে অবৈধ পথে প্রবেশ করা বাংলাদেশিরা সম্পূন্ন বেকার হাতে খাবার কেনার মতোও অর্থ নেই।
তাই তাদের অন্তত দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ সরকার।

খাদ্য সকংটে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য মালদ্বীপের মালের একটি রেস্টুডেন্টে দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতি।

এ অবস্থায় করোনা মোকাবেলায় মালদ্বীপে খাদ্য,ঔষুধ,জীবানুনাষক ও সুরক্ষা সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ,তবে এই খাদ্য সামগ্রীর একটি নির্দ্রিষ্ট অংশ চাইলেই মালদ্বীপ সরকার তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে।



মে ০৪, ২০২০

বেঁচে থাকতে করোনা পরীক্ষার সিরিয়াল পান নি। জীবন দিয়েই আদায় করলেন পরীক্ষা!



বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সিনিয়র সিটিজেন আব্দুর রাজ্জাক। করোনা উপসর্গ নিয়ে আজ মোহাম্মদপুর থেকে এসেছিলেন শাহবাগে একটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করাতে।

দীর্ঘসময় লাইনে থাকলেও পরীক্ষার জন্য সিরিয়াল পাননি। অগত্যা বাসার দিকে পা বাড়ান। একটু সামনে গিয়েই হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। সেখানেই মারা যান এই বয়োজ্যেষ্ঠ।

তার সাথে তাই দুই ছেলে উপস্থিত ছিল। কিন্তু অসহায়ের মতো ছটফট করে বাবার মৃত্যু দেখা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিলো না।


  রাজ্জাকের বড় ছেলে অভিযোগ করেছেন যে রাস্তায় পড়ে যখন তার বাবা ধরফর করছেন তখন বাবাকে বাঁচাতে তিনি নিকটবর্তী বারডেম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানে কেউ পাত্তাও দেয় নি তাদের। লাশ লাশ ঢাকতে একটি কাপড় ছেয়েছিলেন তাও পান নি। কিন্তু রাজ্জাক পেশাগত জীবনে এটজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশের তত্ত্বাবধানে তার মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বেঁচে থাকতে তিনি করোনা পরীক্ষার সিরিয়াল পেলেন না। জীবন দিয়েই আদায় করলেন পরীক্ষা।

 রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম  জানালেন, ‘মারা যাওয়া রাজ্জাক করোনা টেস্ট করতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ বুকে ব্যাথা উঠে সেখানেই মারা যান তিনি।

 তিনি আরও বলেন, রাজ্জাকের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে  ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার দুই ছেলে আমাদের সহায়তায় করেন।

মে ০৪, ২০২০

লক্ষ্মীপুর এতিমখানা মাদ্রাসায় এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও কর্মহীনদের মাঝে সবজি বিতরন করলেন আদনান চৌধুরী ।


লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চাররুহিতা ইউনিয়নের দারুল হুদা নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা শিশুদের এক মাসের খাদ্যসামগ্রী বিতরন করছেন।এসব খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো, চাল, পেঁয়াজ, চিনি, ছোলা, মুড়ি, ডাল, আলু, তেল ও শাকসবজি ৷

   
 
এবং লক্ষীপুর সদর উপজেলার ভবানীগজ্ঞ এলাকায় সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতপূর্বক প্রায় ১৫০০ কেজি শাক-সবজি সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে করোনার মহামারিতে যে সকল কর্মহীন,গরিব ও নিম্ম-মধ্যবিত্ত আছেন তাদের মাঝে ট্রাক ও ভ্যানে করে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন।


 আদনান চৌধুরী বলেন,,,
এই দুর্যোগকালীন সময়ে ট্রান্সপোর্ট সমস্যা ও ক্রেতা কম থাকায় এবং মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে চাষীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। দেশের অনেক স্থানে সময়মত বিক্রি করতে না পারায় অনেক শাক-সবজি পচে যাচ্ছে, কৃষকরা বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এসময়ে যাদের উপহার দেয়া হবে, তারা যেমন ফরমালিনমুক্ত টাটকা শাকসবজি পাবে, আবার চলমান সংকটে কৃষক ভাইরাও বেশ উপকৃত হবে।
পবিত্র মাহে রমজানে, আসুন সবাই পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়াই।

মানুষের পাশে থাকার জন্য এমপি, মন্ত্রী হওয়া লাগেনা। অজস্র টাকার প্রয়োজন হয় না এবং ক্ষমতারো প্রয়োজন হয় না। শুধু প্রয়োজন হয় মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। এই সংকটে বিত্তবানরা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখার প্রয়োজন। যে যার মত করে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আহবান।


শনিবার, ২ মে, ২০২০

মে ০২, ২০২০

সোমালিয়ার মুসলমানদের দুর্ভিক্ষের আর্তনাদ।


ক্ষুধা আর ডায়রিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।একে একে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছেন তারা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সোমালিয়ার অর্ধেক মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। তীব্র খরার কারণে এর আগে ২০১৭ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি  দেশটিতে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়। দেশটিতে মারা যায় অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। জানা যায় সোমালিয়ার বাইদু শহরসংলগ্ন গ্রামগুলোতে ক্ষুধা ও ডায়রিয়ার প্রকোপে লোকজন মারা যাচ্ছেন। সব রোগীদের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে মেডিসিনও নেই। তীব্র খরায় ডায়রিয়া, কলেরা এবং হামের মতো রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন ৫৫ লাখ মানুষ।
স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার কলেরা আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ জনেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পানির অভাবে কলেরা এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে লোকজনের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘের ধারণা, পুরো মাত্রার একটি দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় থাকা সোমালিয়ায় ৫০ লাখ মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে খাদ্য সহায়তার আশায় অনেকে রাজধানী মোগাদিসুর দিকে ছুটছেন। খাবারের খোঁজে একটি ফিডিং সেন্টারে জড়ো হয়েছেন বাস্তুচ্যুত হওয়া সাত হাজারেরও বেশি মানুষ।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিশুদের অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট। সংস্থাটির ফেমিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস নেটওয়ার্ক বলছে, সোমালিয়ায় ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছে প্রায় তিন লাখ ৬৩ হাজার শিশু। এরমধ্যে মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে ৭১ হাজার। এই শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সোমালিয়া সরকার বলছে, ব্যাপক ক্ষুধার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার মতো ঘটনা ঘটছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় চার দেশের জন্য ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা চেয়েছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ দেশগুলোর মধ্যে সোমালিয়ার নাম ছিল। ওই তালিকায় থাকা বাকি দেশগুলো হচ্ছে নাইজেরিয়া, সাউথ সুদান ও ইয়েমেন।
মে ০২, ২০২০

হাসপাতালের বিল না দিতে পেরে সন্তানকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন মা,বাবা।


হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পেরে সন্তানকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন মা,বাবা। গতকাল শুক্রবার গাজীপুরের কোনাবাড়ি সেন্টাল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সেই নবজাতককে উদ্ধার করে মা,বাবার কোলে ফিরিয়ে দেয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গাজীপুরের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফ হোসেন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কেয়া খাতুনকে গত ২১ এপ্রিল কোনাবাড়ি সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অস্ত্রোপচারে ছেলেসন্তান হয়। প্রায় ১১ দিন হাসপাতালে ভর্তি রাখে কর্তৃপক্ষ। এতে তাদের মোট বিল আসে ৪২ হাজার টাকা। বিল দিতে না পারায় তাঁদের হাসপাতাল থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তাঁরা নবজাতক সন্তানকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সন্তানকে হাসপাতালে রেখে গতকাল দুপুরের পর বাড়ি ফিরে যান এই দম্পতি। সন্তান বিক্রির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর যায় পুলিশের কাছেও। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে জানান। গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন ২৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে নবজাতককে ফিরিয়ে আনেন। পরে শরিফ-কেয়ার কোলে সন্তানকে ফিরিয়ে দেন।
নবজাতকের বাবা মো. শরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি স্ত্রী কেয়া খাতুনকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারের দক্ষিণ পাশে এনায়েতপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন। তাঁরা পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। পুলিশ খবর পেয়ে তাঁদের সন্তানকে তাঁদের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে। সন্তানকে ফেরত পেয়ে তাঁরা খুশি। জানালেন, সন্তানের নাম রেখেছেন মো. রাব্বী।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টাকার অভাবে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে পারছিলেন না ওই দম্পতি। পরে তাঁরা বাধ্য হয়ে সন্তানকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন। যাদের কাছে নবজাতককে বিক্রি করা হয়েছিল, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। নবজাতককে মা,বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১ মে, ২০২০

মে ০১, ২০২০

ফোটনের ভর নেই কিন্তু ভরবেগ আছে, কীভাবে?


বিজ্ঞানচিন্তার দপ্তরে অনেক চিঠি আসে, একটা প্রশ্নের উত্তর চেয়ে। মেসেজ আসে বিজ্ঞানচিন্তা গ্রুপ কিংবা ফেসবুক পেজে, একই প্রশ্ন। একটুখানি ফিজিকস গ্রুপের দেয়ালে আছড়ে পড়ে প্রশ্নের ঢেউ- ফোটনের ভর নেই কিন্তু ভরবেগ আছে কেন?
এখানেই আসলে ভরশক্তির সমীকরণের কারিশমা। ধরা যাক, একটা ইলেকট্রন। এর গতি নির্দিষ্ট নয়। কিন্তু একেবারে থেমে থাকা ইলেকট্রনের দেখাও আপনি পাবেন না। তাই যেকোনো ছুটন্ত ইলেকট্রনের ভরবেগ আপনি পাবেন। আলোর তো আর নিশ্চল ভর নেই, তাহলে এর ভরবেগ আসে কোত্থেকে?
এখানেই আসলে আলোর বিচিত্র চরিত্রের খেলা। আলো এক ধরনের শক্তি, সে আমরা সেই প্রাইমারি স্কুল থেকে পড়ে আসছি। আবার শক্তির সঙ্গে ভরবেগের সম্পর্ক আছে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে জানা দরকার, ভরবেগ নিয়ে বাংলা ভাষায় জটিলতা আছে। আমরা যেটাকে বাংলায় ‘ভরবেগ’ বলি, এই শব্দটা দেখলেই বোঝা যায়, ভর আর বেগ দুটোই যেন ডট গুননের নিয়মে পাশাপাশি বসে গেছে। কিন্তু ইংরেজি শব্দটা হলো মোমেন্টাম (momentum)। এখানে ভর অর্থাৎ ম্যাস (mass) কিংবা বেগ, ইংরেজিতে যাকে বলে ভেলোসিটি (Velocity)- এই দুইয়ের নামগন্ধই নেই এই ‘মোমেন্টাম’ শব্দটির মধ্যে। তাই বাংলা ভরবেগ শব্দটা দেখলে আমরা সরলীকরণ করে ফেলি, বস্তুর মোমেন্টাম থাকতে হলে ভর থাকতেই হবে। ঝামেলাটা তৈরি হয়েছে চিরায়ত গতিবিদ্যায় মোমেন্টামের যে সংজ্ঞা আছে সেখান থেকেই।
চিরায়ত গতিবিদ্যায় মোমেন্টামের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, বস্তুর ভর আর বেগকে গুন করে ফলাফল হিসেবে পদার্থবিদ্যার যে রাশিটি পাওয়া যাবে, তাকেই বলে মোমেন্টাম। সুতরাং বাংলা বৈজ্ঞানিক পরিভাষাবিদরা সেটা ‘ভরবেগ’ বানিয়ে ফেলছেন। চিরায়ত বলবিদ্যায় এটাতে সমস্যা থাকারও কথা নয়। সমস্যা হয় তখন, যখন খুদে কণিকাদের হিসাব এসে পড়ে। বিশেষ করে কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় মোমেন্টামের হিসাব মোটেও ভর আর বেগের গুনফল দিয়ে করলে চলে না। কারণ কণাদের ভর থাকতেও পারে নাও পারে। কিন্তু শক্তি আছে। আবার একই সঙ্গে কণা আর তরঙ্গ চরিত্রও রয়েছে এদের। সুতরাং মোমেন্টামের ভেতর কোয়ান্টামের ব্যাপার-স্যাপার না এলে হিসাব মিলবে কী করে?
আবার কণাদের ভর না থাকলেও তার অন্যবস্তুকে মোমেন্টাম অর্থাৎ ভরবেগ দিতে পারে, ঠিক যেমন গতিশীল এক বড় গাড়ি একটা সিএনজি অটোরিক্সাকে ধাক্কা দিয়ে সেটাকে গতিশীল করে দিতে পারে। অর্থাৎ থেমে থাকা একটা অটোরিক্সাকে যদি কোনো প্রাইভেট কার এসে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়, তাহলে অটোরিক্সাটি গাড়ির কাছ থেকে ভরবেগ লাভ করে এবং সামনের দিকে গতিশীল হয়। অন্যদিকে ধাক্কার ফলে প্রাইভেট কারটির গতি কিছুটা কমে যায়, সুতরাং ভরবেগও কমে যায়। আর গাড়ির ভরবেগ ততটুকুই কমবে, যতটুকু ভরবেগ সিএনজি অটোরিক্সাটি লাভ করবে। ঠিক একই ঘটনা ঘটে আলোকতড়িৎক্রিয়ার ক্ষেত্রেই।
আলোকতড়িৎক্রিয়া প্রথম পর্যবেক্ষণ করেণ ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জ, ১৮৮৭ সালে। একই বছর একই ব্যাপার লক্ষ্য করেন জার্মান বিজ্ঞানী ভিলহেম হলকওয়াস। এসময় বিশ্বজড়ে বিজ্ঞানীরা ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে ব্যস্ত। ক্যাথোড রশ্মি আসলে কণাদের স্রোত না আলোর রশ্মির প্রবাহ, তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত গোটা দুনিয়ার বিজ্ঞানীরা। ক্যাথোড রশ্মির পরীক্ষাগুলো চলে বায়ুশূন্য ক্যাথোড টিউবের ভেতর। এই টিউবে যে ক্যাথোড দণ্ড ব্যবহৃত হয়, সেগুলো ধাতুরই তৈরি। হার্জ ক্যাথোড দণ্ডকে অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে আঘাত করেন। এর ফলে সেটা থেকে নির্গত হয় ক্যাথোড রশ্মি। হার্জের বিশ্বাস ছিল ক্যাথোড রশ্মিও এক ধরণের আলোর কণা, তাই ফটোতড়িৎ ক্রিয়ার মাহত্ম্য বোঝা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। পরে অবশ্য হলকওয়াসকেও ভাবিয়েছিল এই ঘটনা। তিনি আরও পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালান। আরেকটু স্পষ্ট হয় ব্যাপারটা। কিন্তু, ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। হার্জ-হলকয়াকেরও দেড় দশক আগে একটু অন্যভাবে ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করেন এক ব্রিটিশ তড়িৎপ্রকৌশলী উলাফবি স্মিথ। কিন্তু তিনি মাথামুণ্ডু কিছুই বোঝেননি। এরপর ১৮৯৯ সালে আলোকতড়িৎক্রিয়া নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জে জে টমসন। আসলে এই ঘটনা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই তিনি নিশ্চিত হন ক্যাথোড রশ্মি আসলে আলোক রশ্মি নয়, ইলেকট্রন কণার স্রোত। অর্থাৎ ইলেকট্রন কণাটাই টমসন আবিষ্কার করে বসেন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে। কিন্তু কেন ক্যাথোড দণ্ডে আলো ফেললে সেখান থেকে ইলেকট্রন কণা নির্গত হবে, সে বিষয়টা নিশ্চিত হতে পারেননি টমসন। 
কাছাকাছি সময় এই ঘটনা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করেন ফিলিপ লেনার্ড। কিন্তু ব্যাখ্যা মেলেনি। ব্যাপারটা ছিল এমন-- ধাতব ক্যাথোড পাত ওপর পাত থেকে ক্যাথোড রশ্মির আকারে আসলে ইলেকট্রন কণাই বেরিয়ে আসছে। সমস্যা আলোকে তখন সবাই তরঙ্গ মনে করত, নিউটনের কণা তত্ত্ব বাতিল করেছিলেন জার্মান বিজ্ঞানী হেনরিখ হাইগেনস শ দেড়েক বছর আগেই। যে জিনিস নিজে তরঙ্গ, তারপক্ষে কীভাবে সম্ভব একটা ধাতব পাত থেকে রীতিমত ভরযুক্ত একটা কণাকে মুক্ত করা?
পাঠক, এখন আবার আমাদের ফিরে যেতে হবে অটোরিক্সা আর প্রাইভেট কারের কাছে। ভাবুন তো একটা স্থির অটোরিক্সার ওরর লক্ষ-কোটি ওয়াটের এক টর্চের আলো ফেলে সেটাকে নড়াতে পারবেন? আপাতদৃষ্টিতে সেটা সম্ভব নয়। কিন্তু আলোর বদলে যদি বাতাস প্রবাহিত করেন? খুব কম বাতাস হলে চলবে না। কিন্তু বাতাসের বেগ যদি খুব বেশি হয়, ধরা যাক সেটা বিশাল এক ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে এলো, তাহলে? শুধু অটোরিক্সা কেন, প্রাইভেট কারকেও উড়িয়ে নিতে পারে। তবে সেটা বাতাস বলেই সম্ভব। কারণ বাতাস বস্তু, ভর আছে, মোমেন্টাম আছে। কিন্তু তরঙ্গ? সেই যুগে তরঙ্গের শক্তির কথা জানত সবাই, কিন্তু তার যে মোমেন্টাম থাকতে পারে একথা ভাবার সাহসই ছিল না। কিন্তু একজন জার্মান, যিনি কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে দেখালেন দুঃসাহস। বললেন, বিকিরণ, যাকে আমরা শক্তি বলে জানি, সেই শক্তি নির্গত হয় গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে। অর্থাৎ যাবতীয় বিকিরণ শক্তি যাকে আমরা এতদিন নিরবিচ্ছিন্ন শক্তি প্রবাহ বলে ভাবতাম, তা আসলে নিরবিচ্ছিন্ন প্রবাহ নয়। যাঁরা রাইচমিলে ধান ভাঙানো দেখেছেন, তাদের জন্য ব্যাপারটা বোঝা সহজ হবে। 
রাইচ মিলের হলার থেকে যখন প্রচণ্ডবেগে চাল বেরিয়ে আসে, তখন মনে হয় ঝর্নার ধারার মতো একটা চালের ধারা বেরিয়ে আসছে। এগুলো যে অসংখ্য চালের সমষ্টি, তখন তা বোঝা যায় না। মনে হয় ধূসর রঙের একটা নিরবিচ্ছিন্ন ধারা হলার থেকে নিচে নেমে আসছে। কিন্তু সেখন থেকে একমুঠো চাল হাতে নিয়ে দেখুন, প্রতিটা চাল তখন আলাদা করে চিনতে পারবেন। ঝর্নার পানির ক্ষেত্রেও একই ব্যপার। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, ঝর্নার ধারা নিরবিচ্ছিন্ন। কিন্তু একথা তো সত্যি, এই পানির ধারাগুলো ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন পানির অণু দিয়ে তৈরি। কষ্টসাধ্য হলেও পানির ধারা থেকে পানির অণুগুলো আলাদা করা যায়।
প্ল্যাঙ্কও বললেন, পানির অণুর মতো কিংবা রাইচ মিলের প্রতিটা চালের মতো বিকিরণ বা আলোরও এমন খুদে কণা জাতীয় কিছু আছে। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বললেন আক্ষরিক অর্থেই বললেন, আলোক রশ্মিগুলো রীতিমতো অসংখ্য কণা দিয়ে তৈরি। ২১ বছর পর ১৯২৬ সালে সেই কণার নাম দেওয়া হয় ফোটন। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক বিকিরণ শক্তি তথা গুচ্ছের তত্ত্ব দিয়েছিলেন কৃষ্ণবস্তির বিকিরণ শক্তির সমাধান করার জন্য, আইনস্টাইন আলোর কণাতত্ত্ব ব্যাবহার করলেন আলোকতড়িৎক্রিয়ার ধর্ম ব্যাখ্যা করতে।
ওপরে যে প্রশ্নটার কথা বলেছিলাম, সেটাতে আবার ফিরে আসি, ভরহীন তরঙ্গের পক্ষে কি ধাতু থেকে ইলেকট্রন মুক্ত করা সম্ভব? আইনস্টাইন বললেন সম্ভব, কারণ আলো শুধু তরঙ্গই নয়, একই সঙ্গে কণাও। আলোর কণাদের যদি বস্তু কণার মতো যদি যথেষ্ট শক্তি থাকে, তাহলে সে ধাতব পাতকে আঘাত করে সেখান থেকে ইলেকট্রনকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারে। সেই মুক্ত ইলেকট্রন যেহেতু ধাতু থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়, সুতরাং সে ভরবেগ লাভ করে। আর এই ভরবেগের জোগান দেয় আঘাতকারী আলোর কণা, যার পোশাকি নাম পরে হয়েছিল ফোটন। তাহলে নিশ্চয় ফোটনেরও মোমেন্টাম অর্থাৎ ভরবেগ আছে?
আইনস্টাইন বললেন,  আসলেই ভরবেগ আছে ফোটন কণাদের। 
সে বছরই আইনস্টাইন তাঁর বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেছিলে। সেখানে আবার বলেছিলেন, আলোর কণার ভর নেই। তাহলে কি স্ববিরোধী হয়ে গেল কথাটা?
না, কারণ আইনস্টাইন স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটির সাহায্যেই দেখিয়েছিলেন, ভর না থালকলেও কীভাবে আলোর কণাদের ভরবেগ বা মোমেন্টাম থাকে। সেটা আলোচনা করেই আমরা এই লেখার সমাপ্তি টানব। তার আগে আরেকটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার।
অনেকেই বলেন, ফোটনের নিশ্চল ভর শূন্য হলেও এর আপেক্ষিক ভর আছে। কারণ ফোটন গতিশীল কণা। আর গতিশীল কণাদের ভর বৃদ্ধি পায় সে কথা থিওরি অব রিলেটিভিটিতেই বলা হয়েছে। এই ধারণা কিন্তু ঠিক নয়। দুটো কারণে ঠিক নয়। প্রথম কারণ থিওরি অব রিলেটিভিটিতে ভর বৃদ্ধির যে সমীকরণ দেওয়া হয়েছে, সেখানে কিন্তু ভরশূন্য বস্তুর ভর বাড়বে এমন কথা বলা হয়নি। বরং যেসব বস্তুর খুব সামান্য হলেও ভর আছে, তাদের ক্ষেত্রেই ভর বাড়বে। প্রয়োজনে আপনি ভর বৃদ্ধির সমীকরণে ফোটনের ভর বসিয়ে দেখতে পারেন। এটা যদি করতে যান, তাহলে আপনার বস্তুর বেগের মানের জায়গায় ফোটনের বেগের মান (c) বসাতে হবে। আর তখন পুরো সমীকরণেই প্যাঁচ লেগে যাবে। সুতরাং ভর শূন্য থেকে বেড়ে যাবে, এ হিসাব আপনি কখনোই মিলাতে পারবেন না।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় কারণে। আর এটাই সবচেয়ে বড় কারণ। আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সমীকরণগুলো গড়েই উঠেছে আলোর বেগ পরম বা ধ্রুবক ধরে। স্থির বা গতিশীল কোনো কাঠামোতেই এর কোনো নড়চড় হবে না। তার মানে ফোটনের কোনো আপেক্ষিক বেগ থাকে না। আর আপেক্ষিক বেগ না থাকলে এর ভর বৃদ্ধিও সম্ভব নয়। সুতরাং গতির কারণে ফোটনের ভর বাড়ছে, তার কারণে ফোটন লাভ করছে ভরবেগ একথার কোনো যুক্তিই নেই।
তাহলে মোমেন্টামটা আসছে কোথা থেকে? এই সমস্যার সমাধানও দিয়েছিলেন আইনস্টাইন আপেক্ষিকতা থেকেই, ভরশক্তির সমীকরণের মাধ্যেম। আইনস্টাইন বলেছিলেন ফোটনের মোমেন্টাম আসে এর গতিশক্তি থেকে। ভরশক্তির সমীকরণ থেকেই পাওয়া যায় ভরকে শক্তিতে রূপান্তর মন্ত্র। আবার ভরযুক্ত বস্তুকে গতিশীল করতে পারলে বস্তটি ভরবেগ লাভ করে। তাহলে শক্তি আছে এমন যেকোনো বস্তুর পক্ষেই মোমেন্টাম বা ভরবেগ লাভ করা সম্ভব, যদি বস্তুটির গতি থাকে। ফোটনের তো চিরগতিশীল কণা, কখনো থামে না। তাহলে এই কণার গতিশক্তি থাকবে, তাই এর মোমেন্টামও থাকবে।
যার নিশ্চল ভর শূন্য তার ভরবেগ কীভাবে থাকে? ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা যায়, আইনস্টাইনের ভরশক্তির সমীকরণ থেকে। চাইলে কোয়ান্টাম তত্ত্বও যোগ করা যেতে পারে। আসুন আমরা দেখে নিই ভরশক্তির সমীকরণ কী বলে?
আইনস্টিইনের ভরশক্তির সমীকরণের আরেকটি রূপ হলো,
E^2 = (pc)^2 + (m০c^2)^2 ………. (১)
এখানে E হলো বস্তুটির শক্তি, P হলো ভরবেগ, c আলোর বেগ এবং m০ বস্তুটির নিশ্চল অবস্থার ভর।
এখন এই সূত্র আমারা ফোটন কণার জন্যও প্রয়োগ করতে পারি। তাহলে ফোটনের নিশ্চল অবস্থার ভর m০= 0 হবে। ফোটনের জন্য ওপরের সমীকরণটি দাঁড়ায়-
E^2 = p^2c^2
বা, E = pc
p = E/c ………. (২)
এখানে ২ নং সমীকরণটিই হলো ফোটনের ভরবেগের সমীকরণ। অর্থাৎ ফোটনের শক্তিকে এর বেগ দিয়ে ভাগ করলেই মোমেন্টাম অর্থাৎ ভরবেগ পেয়ে যাব।
এখানে বিশেষ আপেক্ষিতা দিয়ে দেখানো হয়েছে ভরশূন্য ফোটনের ভরবেগ নির্ণয়ের সূত্রটি। তবে এখানে কিন্তু ফোটনকে কণা হিসেবেই দেখিয়েই ভরবেগ বের করা হয়েছে। কিন্তু ফোটন তো শুধু কণা নয়। একই সঙ্গে তরঙ্গও। তরঙ্গই যদি হয় এর ভরবেগ তাহলে কী হবে?
সেক্ষেত্রে আমাদের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের সেই কোয়ান্টাম তত্ত্বের সমীকরণটিতেই ফিরে যেতে হবে। প্ল্যাঙ্কের সমীকরণ থেকে আমরা জানি, কোনো তরঙ্গ গুচ্ছের শক্তি,
E=hv
এখানে h হলো প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক, v (এটা গ্রিক বর্ণ নিউ ইংরেজি ভি নয় কিন্তু) হলো তরঙ্গের কম্পাঙ্ক। এখনা থেকে E এর মান ২ নং সমীকরণে বসিয়ে পাই-
p = hv/c...................(৩)
এই তিন নম্বর সমীকরণটিই দেখায়, একটা ভরহীন আলোক তরঙ্গের ভরবেগ কী হবে। অর্থাৎ ফোটনের কম্পাঙ্ককে প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবকের সঙ্গে গুন করলের যে গুনফল পাব, তাকে আলোর বেগ দিয়ে ভাগ করলেই পেয়ে যাব ফোটনের ভরবেগ। এর জন্য ফোটনের ভর থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তাহলে, এখন নিশ্চতভাবেই বলতে পারেন, কেন ফোটনের ভর না থাকলেও কেন ভরবেগ আছে।