আন্তর্জাতিক
মে ০২, ২০২০
সোমালিয়ার মুসলমানদের দুর্ভিক্ষের আর্তনাদ।
ক্ষুধা আর ডায়রিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।একে একে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছেন তারা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সোমালিয়ার অর্ধেক মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। তীব্র খরার কারণে এর আগে ২০১৭ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়। দেশটিতে মারা যায় অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। জানা যায় সোমালিয়ার বাইদু শহরসংলগ্ন গ্রামগুলোতে ক্ষুধা ও ডায়রিয়ার প্রকোপে লোকজন মারা যাচ্ছেন। সব রোগীদের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে মেডিসিনও নেই। তীব্র খরায় ডায়রিয়া, কলেরা এবং হামের মতো রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন ৫৫ লাখ মানুষ।
স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার কলেরা আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ জনেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পানির অভাবে কলেরা এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে লোকজনের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘের ধারণা, পুরো মাত্রার একটি দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় থাকা সোমালিয়ায় ৫০ লাখ মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে খাদ্য সহায়তার আশায় অনেকে রাজধানী মোগাদিসুর দিকে ছুটছেন। খাবারের খোঁজে একটি ফিডিং সেন্টারে জড়ো হয়েছেন বাস্তুচ্যুত হওয়া সাত হাজারেরও বেশি মানুষ।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিশুদের অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট। সংস্থাটির ফেমিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস নেটওয়ার্ক বলছে, সোমালিয়ায় ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছে প্রায় তিন লাখ ৬৩ হাজার শিশু। এরমধ্যে মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে ৭১ হাজার। এই শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সোমালিয়া সরকার বলছে, ব্যাপক ক্ষুধার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার মতো ঘটনা ঘটছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় চার দেশের জন্য ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা চেয়েছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ দেশগুলোর মধ্যে সোমালিয়ার নাম ছিল। ওই তালিকায় থাকা বাকি দেশগুলো হচ্ছে নাইজেরিয়া, সাউথ সুদান ও ইয়েমেন।









